সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬ , ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিখোঁজের পর ধানক্ষেতে মিলল ৭ বছরের শিশুর লাশ, দোয়ারাবাজারে তোলপাড় ‎জামালগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, ব্যাপক ফসলহানি হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন

শহরের খালগুলো উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

  • আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৫ ০৯:০০:৩০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৫ ০৯:০০:৩০ পূর্বাহ্ন
শহরের খালগুলো উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
সুনামগঞ্জ শহরের খালগুলো একসময় ছিল এর প্রাণসঞ্চারী শিরা-উপশিরার মতো। কামারখাল, বলাইখাল, তেঘরিয়া খাল, বড়পাড়া খাল, নলুয়াখালি খাল, ধোপাখালি খাল ও গাবরখালি খাল - এই সাতটি খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমই ছিল না; এগুলো পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও শহরের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, ধারাবাহিক প্রশাসনিক অবহেলা, প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালগুলো আজ অস্তিত্ব হারানোর পথে। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে যে খাল উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছিল, তা ছিল জনমনে আশার সঞ্চারকারী। দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রশাসন একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযান অল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায়। তার ফলস্বরূপ, খালগুলো আবারও বেদখলে চলে গেছে- লাল দাগ মুছে ফেলে, নতুন করে স্থাপনা গড়ে তোলে খাল গিলে খাচ্ছে দখলদাররা। উদ্বেগজনক হলো, এসব অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী বাসিন্দা, পৌরসভা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি ও ধর্মীয় স্থাপনাও। এই অবস্থা কেবলমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এটি আমাদের সামষ্টিক মূল্যবোধ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের প্রশ্নও তুলে ধরে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর আইনি উদ্যোগ ও আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও খাল উদ্ধারে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা না থাকায় দখলদারদের সাহস বেড়েছে। তারা জানে, দুদিনের উচ্ছেদের পর কর্তৃপক্ষ আর ফিরে তাকায় না। তাই অবাধে তারা আবারো দখলে নামে। আমরা মনে করি, অভিযান কেবল খাল উদ্ধারে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার অংশ। অসচ্ছল দখলদারদের পুনর্বাসনের বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করলে মানবিক সংকট তৈরি হয়। এটি দখল পুনরাবৃত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খালপাড় সংরক্ষণ ও বনায়ন উচ্ছেদকৃত জায়গায় দ্রুত গাছ লাগানো ও খালপাড়ের স্থায়ী ঘেরা বাঁধ দিলে আবার দখলের সাহস পাবে না কেউ। এছাড়া খাল দখলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। সুনামগঞ্জকে একটি বসবাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খাল উদ্ধার কেবল জরুরি নয়- এটি একান্ত অবশ্যম্ভাবী। এখন আর আশ্বাসে নয়, জনগণ চায় কার্যকর পদক্ষেপ। তাই সময় এসেছে শক্ত অবস্থান গ্রহণের - না হলে অচিরেই এই শহরের নামও কেবল একটি ডুবে যাওয়া স্মৃতি হয়ে থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ